ভারতীয় তরুণীর বিশ্বের প্রথম নারী হয়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি।

156

কালের সমাচার ডেস্ক।

২৩ বছরের মেয়েটি বিশ্ব ঘুরে বেরিয়েছে আকাশ ছুঁয়ে। আরোহী কার্যত একাই, ছোট্ট একটা বিমানে চড়ে অসাধ্য সাধন করেছেন।

নিজ দেশ ভারতকে গর্বিত করেছেন। সারা বিশ্বের নারীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

মুম্বাইয়ের এই তরুণী ১০ মাসে সব মিলিয়ে বিমান চালিয়েছেন ১২০ ঘণ্টা। ১৮টি দেশ ও ৩৭ হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়েছেন।

তার এমন কাজে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ১৩ মে সোমবার সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে প্রথম ভারতীয় নারী

এবং সম্ভবত বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে কানাডার ইকালুইত বিমানবন্দরে পৌঁছান।

‘মাহি’ নামের বিমানটি সিঙ্গল ইঞ্জিন ও টু সিটার। অত্যাধুনিক সুযোগসুবিধাযুক্ত বিমানে রয়েছে বিশেষ স্যাটেলাইট ট্র্যাকার্স।

আরোহী পরিবেশ-বান্ধব, অত্যন্ত হালকা সাইনাস ৯১২ মডেলের স্পোর্টস এয়ারক্র্যাফট একা চালিয়ে উড়েছেন সমুদ্রের উপর দিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই আরোহীর আকাশো ওড়ার স্বপ্ন ছিল।

বম্বে ফ্লাইং ক্লাবে পেশাদার বিমান চালকের লাইসেন্স পাওয়ার সময় আরোহী ও তাঁর বন্ধু কেইথাইর মিসকুইত্তার আলাপ হয়।

শেষ, আট জন আবেদনকারীর মধ্যে থেকে দুই বন্ধু নির্বাচিত হন।

সার্বিয়ায় প্রশিক্ষণ হয়। ২০১৮-র ৩০ জুলাই একসঙ্গে যাত্রা শুরু করেন আরোহী ও তাঁর বন্ধু মিসকুইত্তা।

পাতিয়ালা থেকে যাত্রা শুরু করে তাঁরা পঞ্জাব, রাজস্থান হয়ে পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, সার্বিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন ইত্যাদি পেরিয়ে আইসল্যান্ডে পোঁছান। সেটাই তাঁদের অভিযানের প্রথম ধাপ।

পরের ধাপে অবশ্য আরোহী একা নির্বাচিত হন। কারণ, একার বেশি বিমানে চড়া সম্ভব ছিল না।

অক্সিজেন সিস্টেম, লাইফ জ্যাকেট ইত্যাদি রাখার পরে বিমানে আর জায়গা ছিল না।

এরপর একা একাই উড়ে চলা। নীচে ঘন নীল সমুদ্র। মাথার উপরে স্বচ্ছ নীল আকাশ।

আর তার মাঝে একটা ছোট্ট বিমানে চড়ে পেরিয়ে যাওয়া দীর্ঘ পথ। স্কটল্যান্ড থেকে কানাডা। মাঝে কয়েক জায়গায় ছোট্ট বিরতি।

আরোহী সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি যে দেশের জন্য ও সমস্ত নারীদের জন্য আমি এটা করতে পেরেছি।’

মাঝের বিরতিগুলোতে সময় কাটিয়েছেন নিজের আইফোনও ম্যাকবুকে সিনেমা ও ডকুমেন্টরি দেখে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.