এশিয়ার সেরা ৫ তারকা খেলোয়ার শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন।

46

কালের সমাচার ডেস্ক।

আগামী ৩০ মে শুরু হতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর।

লন্ডনের ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ২০১৯ বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপ মানে তারকার মহা তারকা হওয়া।

এই বিশ্বকাপেই পতন ঘটে অনেক তারকার। আবার বিশ্বকাপের বিশাল মঞ্চ থেকে বিদায় নেন অনেক তারকা ক্রিকেটারও।

এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মর্তুজা, ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনিসহ এশিয়ার ৫ সুপারস্টার ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেন বিশ্বকাপে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ): বিশ্বকাপের পর বিদায় জানাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। এমন ঘোষণা দিয়েছেন অনেক আগেই।

নির্বাচিত হয়েছে জাতীয় সংসদের সদস্য। বারবার ইনজুরিতে পড়ার পরও বর্নাঢ্য এক ক্যারিয়ার রয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের।

দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০৫টি ওয়ানডে খেলা নড়াইল এক্সপ্রেস উইকেট শিকার করেছেন ২৫৯টি।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনি। ৭০টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৩৬ টেস্টে তাঁর উইকেট ৭৮টি।

এছাড়া ৫৪ টি-টোয়েন্টিতে ঝুলিতে পুড়েছেন ৪২ উইকেট।

মহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত): শচীন টেন্ডুলকারের পর ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি।

অনেক ভারতীয় আবার কপিল দেবের পাশে বসিয়েছে তাঁর উইকেটরক্ষককে। তাঁর ক্রিকেটীয় ব্রেইনে প্রায় ২৮ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।

এছাড়া ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে তাঁর নেতৃত্বে।

অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৩২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডটির মালিক তিনি।

৩৭ বছর বয়সী ধোনির ৯০ টেস্টের ক্যারিয়ারে করেছেন ৪ হাজার ৮৭৬ রান। ৩৪১ ওয়ানডেতে তাঁর মোট রান ১০ হাজার ৫০০।

এছাড়া ৯৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৬১৭ রানের মালিক ধোনি।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩১৪ ক্যাচ এবং ১২০ স্টাম্পিং করা ধোনি আসন্ন বিশ্বকাপ শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন বলে মনে করছে অনেকেই।

লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা): ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ হতে পারে লাসিথ মালিঙ্গার শেষ বিশ্বকাপ।

শ্রীলংকার হয়ে নিজের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করেছেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার।

ইনজুরির কারণে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার আগে ৩০ ম্যাচে নিয়েছেন ১০১ উইকেট।

২১৮ ওয়ানডেতে তাঁর শিকার ৩২২ উইকেট। ৭৩ টি-টোয়েন্টিতে উইকেট ৯৭টি।

শোয়েব মালিক (পাকিস্তান): পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মোটামোটি সব পজিশনেই ব্যাট করেছেন শোয়েব মালিক।

প্রায় দুই দশকের বেশি সময়ে ১০৮ টি-টোয়েন্টিতে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড তাঁর দখলে।

২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ২০১৫ সালের পর টেস্ট খেলেননি তিনি। ৩৫ টেস্টে ৩২ উইকেটের সঙ্গে তাঁর মোট রান ১ হাজার ৮৯৮।

২৭৮টি ওয়ানডেত ১৫৬ উইকেট শিকারের পাশাপাশি রান করেছেন ৭ হাজার ৪৮১।

১১১ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ২৬৩ রানের সঙ্গে আছে ২৮ উইকেট।

২০১৯ বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন মালিক। তবে ধারণা করা হয়েছে ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারেন তিনি।

মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান): দেশের হয়ে ৫৫ টেস্টে ৩ হাজার ৬৫২ রান করেছেন হাফিজ।

২০০৩ সালে আভিষেক হওয়ার পর ২০৮ ওয়ানডে ম্যাচে তাঁর মোট রান ৬ হাজার ৩০২।

এছাড়া ৮৯ টি-টোয়েন্টিতে করেছেন ১ হাজার ৯০৮ রান। অ্যাকশন ত্রুটির কারণে বর্তমানে বোলিং করতে পারছেন না তিনি।

তবে গত বেশ কিছু দিন যাবত ফর্মটা মোটেই ভাল যাচ্ছেনা হাফিজের।

এজন্য ২০১৯ বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন তিনি।

তবে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন মোহাম্মদ হাফিজ।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.