ছাতা মাথায় ক্লাস।

44

কালের সমাচার ডেস্ক।

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় এরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন বেহাল দশা।

যে রোদ যেমন তেমন করে পার করলেও বৃষ্টি হলে ছাতা মাথায় ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে হয়।

শুধু এ বিদ্যালয় নয়, জেলার ৭০৮ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩৩ টি ঝুঁকিপূর্ণ।

ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে।

এরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।

একটি টিনশেড ঘরে তিনটি এবং পাকা ভবনে দু’টিসহ ৫টি কক্ষে চলে শিক্ষা কার্যক্রম।

পাকা ঘরটির ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। টিনশেড ঘরেরও একই অবস্থা।

কিছু দিন আগে টিনশেড ঘরটি কিছুটা মেরামত করা হয়েছে।

তারপরও বৃষ্টি শুরু হলেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। না হয় মাথায় ছাতা দিয়ে পড়ালেখা চালাতে হয়।

বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি একদম কমে যায়।’

রাঙামাটি সদর ইউনিয়নের বালুখালী বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুপক চাকমা বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের ছাদের বিম ফেটে গেছে।

প্রায় সময় পলেস্তারা খসে পড়ে। ছোট ছোট বাচ্চাকে নিয়ে খুব আতঙ্কে থাকি।

যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার তো আমাদের ওপর এসে পড়বে।

তাই দ্রুতই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

১৯৮২ সালে স্থাপিত হয়েছিল বাঘাইছড়ি উপজেলার পূর্ব আমতলী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষক মো. মোস্তাফিজ জানান উপজেলা শিক্ষা অফিসার ২০১৫ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে একটি রুমে পাঠদান এবং একটি রুমে লাইব্রেরি রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের টিনশেড একটি ঘর আছে যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার স্থান না হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ’

বাঘাইছড়ি উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সোনা মিত্র চাকমা বলেন, ‘বাঘাইছড়ি উপজেলা অন্যান্য উপজেলা থেকে একটু বেশি দুর্গম এলাকা।

এজন্য অনেক বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এই উপজেলায় ১১৬টি বিদ্যালয় আছে, যার মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৫-২০টি।’

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, ৭০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে রাঙামাটি জেলায়।

যার মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে মার্চে জাতীয়করণ করা হয় ৮১টি বিদ্যালয়।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সেই বিদ্যালয়গুলোর। সব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে মোট ১৩৩ টি বিদ্যালয়।

আমরা এসব বিদ্যালয়ের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.