অতিরিক্ত খাওয়ার জন্যই ডায়াবেটিস হয়, এ ধারণা সত্য নয়।

প্রকাশঃ ১২ আগস্ট,২০১৮

774

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ, যেটা নিয়ে সবার মধ্যেই কমবেশি মিথ প্রচলিত আছে যে, অতিরিক্ত খাওয়ার জন্যই ডায়াবেটিস হয়ে থাকে৷ কিন্তু এ ধারণা একেবারে সত্য নয়৷ দুধরনের ডায়াবেটিস আছে : (১) ডায়াবেটিক মেলিটাস-১ এবং (২) ডায়াবেটিক মেলিটাস-২। দ্বিতীয় ধরনের ডায়াবেটিস সাধারণত বংশগত/ জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে। আর প্রথম ধরনের ডায়াবেটিস হয় মূলত খাদ্যাভ্যাস বা ইনসুলিন হরমোনের ইমব্যালেন্স কিংবা শারীরিক পরিশ্রম কম করার কারণে।

যে কারণেই এ রোগ হয়ে থাকুক না কেন, মেনে চলতে হবে পরিমিত ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু নিয়মাবলী (যেমন : নিয়ম করে প্রতিদিন ২-৩ মাইল হাঁটার চেষ্টা করুন)। কখন বুঝবেন ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা : সাধারণ মানুষদের গ্লুকোজ — ফাস্টিং/খালি পেটে : 4.0 – 5.4 mmol/L খাওয়ার ২ ঘন্টা পর : <= 7.0 mmol/L ডায়াবেটিস হলে — ফাস্টিং/খালি পেটে : 4.0 – 7.0 mmol/L খাওয়ার ২ ঘন্টা পর : >= 9.0 mmol/L

 

ছবিঃ ইন্টারনেট

আজ কিছু সাধারণ খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলব যা ডায়াবেটিস পেসেন্ট দের মেনে চলা উচিত।

যেহেতু ডায়াবেটিস মানেই রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা বেশি, তাই এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে, যাদের মধ্যে গ্লুকোজ কম পরিমাণে আছে কিংবা থাকলেও, তা রক্তে পৌছাতে বেশ কিছু সময় লাগে।

যেধরনের খাবার গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে বা হজম হতে বেশি সময় লাগে, তা হলো :

–বিভিন্ন ফলমূল বা শাকসবজি

— লাল আটার রুটি

— লাল চালের ভাত

— ডাল, মটরশুঁটি, বিভিন্ন বিনস

— চিনিমুক্ত দুগ্ধজাত খাবার(চিনিমুক্ত চিজ/পনির)

এছাড়াও নিম্নলিখিত পরিমাণে উপাদানসমূহ গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে : — করলার জুস ১/২ বার — মেথি ১৫ গ্রাম/ দিন (১ চা চামচ = ৫ গ্রাম) — < ৩ গ্রাম সোডিয়াম (১ চা চামচ = ৫ গ্রাম) ফলের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, চেরি, বিভিন্ন বেরিস (জাম, স্ট্রবেরি, রাপ্সবেরি ) ইত্যাদি ভাল। এরা খুব কম পরিমাণে শোষিত হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণেও এদের ভূমিকা আছে। তবে খুব বেশি খেলে পেট ফাপা, বদহজম হতে হতে পারে, তাই সেব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। শাকসবজির মধ্যে আঁশযুক্ত শাকসবজি নির্বাচন করতে হবে৷ এরা পাকস্থলীতে পানির সাথে মিশে আয়তনে বেড়ে উঠে।ফলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং এরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে, সহজে বাড়তে দেয় না। যা খাবেন না :

–অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার।

–সফট ড্রিংকস বা কোমল পানীয় ।

–ফাস্ট ফুড, (বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজ্জা ইত্যাদির ডো এবং সসে প্রচুর চিনি থাকে)।

–চিনিযুক্ত ভাজা পোড়া খাবার।

–বিভিন্ন রুটস ভেজিটেবলস (আলু, মিষ্টি আলু, শালগম) অল্প পরিমাণে খেতে পারবেন। তবে একেবারেই বাদ দেবার প্রয়োজন নেই। –বেকারি প্রোডাক্টস যেমন : কেক, ডোনাট, পেস্ট্রি, মিষ্টি বিস্কুট ইত্যাদি।

— শেল ফুড যেমন : চিংড়ি, লবস্টার, ঝিনুক, শামুক ইত্যাদি।

— অরগান মিট যেমন :মাংসের কিডনি, লিভার, ব্রেইন।

— Alcohol/ hard drinks

— কাচা লবণ

যা কখনোই করবেন না :

— কোন বেলার খাবার বাদ দেয়া যাবে না।

— ক্ষুধা নিয়ে, না খেয়ে থাকা যাবে না।

অনেকে মনে করে থাকেন, না খেয়ে থাকলে ডায়াবেটিস কমে যাবে। যা একদম ভুল ধারণা, উল্টো এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। ফলে হিতে বিপরীত হয়। ব্লাড গ্লুকোজ ফল (fall) করে অনেক ক্ষেত্রে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে এমনকি মারাও যেতেও পারে। ডায়াবেটিস হওয়া মানেই, খাবারের সাধ আহ্লাদ ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত জীবন । আমাদের সকলেরই নিয়ম মেনে খাওয়া এবং পরিমিত কায়িক শ্রম করা উচিত। তবেই সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।

লিপি রানী মন্ডল , কালের সমাচার ডেস্ক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.