নারায়ণগঞ্জের দলিত সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্রাজুয়েট সনু রানী।

306

কালের সমাচার ডেস্ক।

পরিবারের আগ্রহে স্কুলে যাওয়া শুরু করেন সনু, তবে কলেজে ভর্তির ব্যাপারে মায়ের অমত ছিল। কিন্তু বাবার ইচ্ছায় কলেজে ভর্তি হন তিনি।

তিনি জানান ‘আমি এততুকু এসেছি আমার বড় ভাইয়ের কারনে’।

সনু বলেন “আমি যখন এস. এস. সি পাশ করি তখন সবার প্রতিক্রিয়া ছিল দারুন।কিন্তু আমি যখন ডিগ্রি পাশ করেছি সেটা কেউ বুঝতে পারেনি।

আমাদের এলাকায় ডিগ্রি আর মাস্টার্স কেউ বুঝে না। শুধু ম্যাট্রিক পাশ। সনু কি করেছে? ম্যাট্রিক পাশ করেছে।”

সনু রানী তার সফলতার গল্পে বলেন, “আমি মাস্টার্সের প্রিলি শেষ করেছি এখন ফাইনালে ভর্তি হব।

আমরা তিন জন একসাথে এস. এস. সি ও ইন্টার শেষ করেছি। এর আগে দলিত সম্প্রদায়ের কোন ছেলে-মেয়ে এস. এস. সি. পাশ করেনি।

বাকি সবাই প্রাইমারি থেকেই ঝরে পড়েছে। আমরা এলাকায় হিন্দিতে কথা বলি।

এখানে বাচ্চারা ভাষার কারনে পড়ালেখায় আনন্দ পায় না।

এমন কি আমাদের দেশে যে এত বড় একটা যুদ্ধ হয়েছে। লজ্জার বিষয় আমরা মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে জানি না।

না জানার কারন আমরা হিন্দি সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। আমারা বাংলা সংস্কৃতির সাথে মিশছি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা স্কুলে পরিচয় গোপন রাখতাম। বাঙালি কারো সাথে মিশতাম না। বাংলা টা অন্যদের মতো হতো না।

কথা বললে তারা যদি বুঝতে পারে তারা আমাদের স্কুলে পরতে দিবে না।

আমাদের বড়রা মেনে নিয়েছিল আমরা দলিত সম্প্রদায়ের (মেথর) মানুষ,এটাই আমাদের প্রাপ্য।

অনেক সময় যখন স্কুলে যেতাম তখন অনেকেই বলত এই মেথররা যাচ্ছে মেথররা যাচ্ছে।

এরকম কয়েকবার বলতে শুনেছি যেটা আমার খুব গায়ে লেগেছে।

একবার আমার দাদার সাথে একটা বিয়েতে গেছিলাম। সেখানে একটা চায়ের দোকানে আমরা দলিত সম্প্রদায় বলে চা খেতে দেয়নি।”

সনু স্নাতক শেষ করে এখন স্থানীয় শিশুদের পড়ান। এ বিষয়ে সনু বলেন, “ আমার হাতে ৫ জন জে এস সি পাশ করেছে।

ভাষার কারনে আমি তাদের অনেকটা সাহায্য করতে পেরেছি। ভাষার সমস্যায় আমিও পড়েছি অনেক বাংলা বুঝতাম না।

আমি অনর্গল মুখস্ত করতাম পরীক্ষায় পাশ করার জন্য। আমার কোন আইডল ছিল না।

এখন এই বাচ্চারা আমাকে দেখে শিখছে। যখন তারা আমাকে সম্মান দেয় তখন আমার খুব গর্ব হয়। মনে হয়, আমি কিছু একটা করতে পেরেছি।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.