সব বয়সের দোষ!

56

কালের সমাচার ডেস্ক।

বিশ্বে তাঁর অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে ৩০ কোটির বেশি। আর কোনো শিল্পীর এই রেকর্ড নেই।

তাই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁর নাম উঠেছে বিশ্বের সেরা ‘বেস্ট সেলার শিল্পী’ হিসেবে। তাঁর নাম ম্যাডোনা।

তাঁকে ‘পপসম্রাজ্ঞী’ নামে অভিহিত করা হয় পপ ধাঁচের গানে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য।

তিনি একাধারে সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী, ব্যবসায়ী, ডিজাইনার, পরিচালক, প্রযোজক, লেখক এবং মানবাধিকারকর্মী। এক কথায় তিনি সবই।

সময় পেলেই ম্যাডোনা সংগীতের পাশাপাশি এটা–সেটা করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন ব্র্যান্ড চালু করেছেন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান আইকনিক্স ব্র্যান্ড গ্রুপের সঙ্গে মিলে।

২০০৮ সালে ম্যাডোনা পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ফিলথ অ্যান্ড উইসডম’ মুক্তি পায়। শিগগিরই দ্বিতীয় ছবি পরিচালনার কাজে হাত দেবেন। ছবির নাম ‘ডব্লিউ’।

ব্রিটেনের রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের বহুল আলোচিত প্রেমকাহিনি নিয়ে ছবিটি নির্মিত হবে।

ভিএইচওয়ান অনুযায়ী, ম্যাডোনা বিশ্ব সংগীতজগতের সেরা ১০০ নারীর মধ্যে সবার ওপরে।

তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য‘লাইক আ ভার্জিন’, ‘রে অব লাইট’, ‘ভোগ’, ‘টেক আ বো’, ‘ফ্রোজেন’, ‘লাইক আ প্রেয়ার’, ‘মিউজিক’, ‘হ্যাং আপ’, ‘ফোর মিনিটস’ প্রভৃতি।

ম্যাডোনার বর্তমান বিশ্বাস, ‘রোল মডেল’ বলে এখনকার পৃথিবীতে কেউ নেই।

তিনি ব্রিটিশ ‘ভোগ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার জন্য পৃথিবীতে এমন কেউ বেঁচে নেই, যাকে আমি অনুসরণ করতে পারি।

কারণ, আমি যা করেছি, এখন পর্যন্ত কেউ তা করেনি। বিষয়টা কিঞ্চিৎ ভীতিকর।

আমি আমার ছোটবেলায় যাঁদের আদর্শ মানতাম, যেমন যোদ্ধা সিমন দ্য বোভোয়ার, অ্যাঞ্জেলা ডেভিস; আজ তাঁদের মতো আর কেউ নেই।

ছয় সন্তানের একা মা হয়েও আমি সৃজনশীল এবং শৈল্পিক কাজ করা চালিয়ে গেছি। রাজনৈতিকভাবে সরব থেকেছি। সবই করেছি, সব।

সুতরাং আমি মনে করি, এমন কেউ নেই, যিনি আমার জায়গা পর্যন্ত পৌঁছেছেন।’

বিতর্ক সঙ্গে নিয়ে কেটেছে ৬০ বছর বয়সী ম্যাডোনার জীবনটা। সে হোক ব্যক্তিগত জীবন, পেশাজীবন, জীবনযাপন, বৈবাহিক জীবন বা সংগীতজীবন।

সবকিছু নিয়ে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে অসংখ্য সমালোচনার। ৩৬ বছর সংগীতজগতে থাকার পর তাঁর মনে হয়েছে, সবাই তাঁকে নিয়ে এখন ট্রল করছে বয়সের কারণে।

তিনি ‘ভোগ’কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মানুষ সব সময় কিছু না কিছু নিয়ে সমালোচনা করে আমাকে চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছে।

কখনো আমার জীবনযাপনের ধরন ঠিক নেই, কখনো আমি দেখতে বিশ্রী, আমি ভালো গাই না বা আমি যথেষ্ট প্রতিভাবান নই।

তারপর শুরু হলো, আমি বিয়ে টিকিয়ে রাখতে পারি না। আর এখন শুরু হয়েছে, আমি যথেষ্ট তরুণ নই।

এভাবেই তাঁরা সব সময় কোনো না কোনো একটা কারণ বের করে আমার ওপর চাপিয়ে দেয়।

এখন আমি বয়সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। এখন আমার বয়স ৬০ হওয়ার কারণে আমি অপরাধী।’

ডেকান ক্রনিকল

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.