ইউল্যাবে নদী ও ধর্ম নিয়ে চারদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

76

কালের সমাচার ডেস্ক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) নদী ও ধর্ম নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অষ্টম সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ইস্ট এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়নের (এসএসইএএসআর) আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

আয়োজকরা জানিয়েছে আগামী ১৩ জুন, বৃহস্পতিবার, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ধানমন্ডিতে ইউল্যাবের প্রধান ক্যাম্পাসে শুরু হবে।

১১ জুন মঙ্গলবার, দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আয়োজকরা বিস্তারিত তুলে ধরেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের সম্মেলনের বিষয়বস্তু ‘নদী ও ধর্ম: দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক’ যেটা আবহমান বাংলার সাথে জড়িত।

চারদিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৩০টি দেশর ১৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে ১৫টি শিরোনামের অধীনে ৩৭টি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে।

১৩ জুন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী কে এম খালিদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার মিসেস রিভা গাঙ্গুলি দাস সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৫ জুন, সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এই সম্মেলনে আয়োজন করা হবে বই মেলা, লোকশিল্প মেলা এবং ইউল্যাবের শিক্ষার্থীদের ‘বাংলাদেশের নদী’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ও ‘গ্রুপ টেম্পল অব পুঠিয়া’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর। ১৬ জুন শেষ হবে সম্মেলন।

ইউল্যাবের প্রো-ভিসি প্রফেসর শামসাদ মর্তূজা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইউল্যাবে আমরা চেষ্টা করি পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি অন্য জ্ঞানের শাখাগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসার।

তাই প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের সেন্টার ফর আরকিওলজিস স্টাডিজ (সিএএস) আছে।

প্রফেসর শাহনাজ অনেকদিন ধরে এটি চালিয়ে আসছেন। ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উদ্যোগে ভিতরগড়ে আমাদের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খননের জায়গা আছে।

সেই জায়গা থেকেই এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শুরু এবং যোগসূত্র।

কারণ আর কোনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি খননের জায়গা রেখেছে কিংবা স্থানীয় মানুষজনকে সম্পৃক্ত করছে, তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে- এটা বোধহয় বিরল।

সেদিক থেকে আসন্ন এই সম্মেলন অন্যান্য সম্মেলন থেকে আলাদা। সাধারণত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিদেশ থেকে হয়তো কোনও অতিথি আসেন, প্রবন্ধ পাঠ করেন।

এই জায়গায় আমরা বাংলাদেশকে তুলে ধরছি। সুতরাং এই যে ৪০ জনের মতো বিদেশি অতিথি আসবেন,

২০০টির মতো নিবন্ধ এসেছে, দু’জন মন্ত্রী আসবেন শুরুর আর শেষের দিন, এটাতেই বোঝা যাচ্ছে এই আয়োজন কতো বড়।’

প্রফেসর শাহনাজ হুসনে আরা সম্মেলনে নদী ও ধর্মের সম্পৃক্ততা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের বিশয়বস্তু নদী ও ধর্ম।

আমি যখন জানলাম দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সব গবেষকদের গবেষণা উপস্থাপন করবে, এর একটি প্রতিপাদ্য দরকার।

আমি প্রথম চিন্তা করলাম, বাংলাদেশকে আমি কী দিয়ে তুলে ধরতে পারি। তখনই আমার সামনে নদীগুলো ভেসে উঠলো।

কারণ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, হাজার নদীর দেশ। এই হাজার হাজার নদীর তীর ঘেঁষেই কিন্তু সভ্যতার বিকাশ হয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের যেসব প্রত্নসম্পদ আছে, সভ্যতার নিদর্শন যে জায়গাগুলো এগুলো সবই নদীর তীর ঘেঁষে হয়েছে।

এজন্য আমি চিন্তা করলাম এই নদীকে আমার প্রতিপাদ্য হিসেবে নিয়ে আসতে হবে। এখন যেহেতু এটা ধর্ম নিয়ে শিক্ষা সেহেতু ধর্মকেও এখানে আনা।

কিন্তু ধর্ম মানে কি শুধু হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ? আমি এখানে অন্যকিছু বলছি। ধর্ম বলতে আমি বুঝিয়েছি চিন্তা, আদর্শ।’

অধ্যাপক সুমন রহমান বলেন, ‘আমরা আসলে বেশ খুশি যে এরকম একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন এই ইউল্যাবে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে।

আমরা নদীর সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে নদীর যে অতপ্রোত সম্পর্ক, সংস্কৃতি, বহমানতা

এবং ধর্ম কোন প্রেক্ষাপটে হাজির হয়, জীবনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এটা বোঝার যে চেষ্টা, সেটা আমরা এই সম্মেলনে দেখবো।

৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা আসবেন, আমাদের শিক্ষার্থীরাও সেখানে থাকবে। তারা সেখান থেকে তাদের দীক্ষা নেবে।

এই জিনিসটি আমরা করি ইউল্যাবে। আমরা শুধু ক্লাসরুমে শিক্ষা দেই না। আমাদের শিক্ষার্থীরা সম্মেলনে যাবে, সেখান থেকে তারা শিখবে।

যে কারণে সাধারণত আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের বলি কো-ক্রিয়েটর অব নলেজ।’

এসময় ইউল্যাব সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ইস্ট এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়নের (এসএসইএএসআর) সভাপতি অমরজিভা লোচান ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও সম্প্রীতির জন্য সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ইস্ট এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়ন (এসএসইএএসআর) একটি একাডেমিক সংস্থা।

এটি ইউনেস্কো’র অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়ন (আইএএইচআর) এর আঞ্চলিক সংস্থা।

সংস্থাটির সঙ্গে হাভার্ড, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, ইয়েল, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যশ্নাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর

এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৮৫টি দেশের ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যুক্ত আছে।

সংস্থাটি প্রতি ২ বছর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে থাকে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.