বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ।

193

কালের সমাচার ডেস্ক।

৩রা মে, শুক্রবার, পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ।

এবারের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (বুয়েট) –এ।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ এবং সারা দেশের প্রায় দুইশোটির মতো স্কুল ও কলেজে এই প্রতিযোগিতার প্রচারণা করা হয়।

৩মাস ব্যাপী প্রচারণা করার পর এসজেডাব্লিউপি বিডি ২০১৯ -এর চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা, খুলনা এবং কুষ্টিয়া সহ দেশের পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি

এবং দুটি ক্যাডেট কলেজ সহ মোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করে। বরাবরের মতো এবারের অনুষ্ঠানটিও আয়োজন করে হাউস অফ ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।

২০১৫ সাল থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান।

এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের বয়সসীমা হল ১৫ থেকে ২০ বছর।

এসজেডাব্লিউপি প্রতিযোগিতাটি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ইনস্টিটিউটের একটি প্রকল্প;

যার মূল উদ্দেশ্য হলো সাশ্রয়ী মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার ব্যাপারে তরুণদের উৎসাহিত করা।

বুয়েট এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ থেকে একদল প্রতিনিধি প্রতিযোগীদের প্রজেক্টগুলো তত্ত্বাবধান করেন এবং নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিযোগীরা বুয়েটের সম্মানিত শিক্ষক, পানি-বিজ্ঞানী, পানি-বিশেষজ্ঞ, কারিগরি বিশেষজ্ঞগণ এবং বাংলাদেশে পানি গবেষণা

এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত অন্যান্য সংস্থার ১১জন জুরির সামনে পোস্টারের মাধ্যমে তাদের প্রোজেক্ট উপস্থাপন করে।

২০১৯ সালে আগস্ট মাসে জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ী দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য সুইডেনের স্টকহোমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।

জাতীয় প্রতিযোগিতার জুরি প্যানেলে সম্মানিত জুরি ছিলেন – ডঃ তানভীর আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট); ডঃ ফেরদৌস সারওয়ার,

সহযোগী অধ্যাপক, শিল্প ও প্রকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট); ডঃ শুভ্র ভট্টাচার্য, কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর,বাংলাদেশ-সুইডেন টেক্সটাইল ওয়াটার ইনিশিয়েটিভ (এসটিডাব্লিউআই)

এবং অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমান;

বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন এসজেডাব্লিউপি বিডি- এর ডঃ মোঃ খায়রুল ইসলাম; পানি অধিদফতরের ডঃ শুভ্র ভট্টাচার্য,

কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর,বাংলাদেশ-সুইডেন টেক্সটাইল ওয়াটার ইনিশিয়েটিভ (এসটিডাব্লিউআই); মাহবুবুর রহমান, প্রোগ্রাম উপদেষ্টা, সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসজেডাব্লিউপি, বিডি -এর প্রাক্তন বিজয়ীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এসেছে।

বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতাটি চালু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা শীর্ষতালিকায় রয়েছে।

এসজেডাব্লিউপি -র মূল পৃঠপোষক জাইলম ইনক এর পাঁচটি ধারণা এ প্রতিযোগিতার অংশ।

২০১৭ সালে এসজেডাব্লিউপি, বিডি এর প্রতিযোগি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিল; যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা স্বীকৃতি।

একই দিনে বুয়েটের এআরআই- আইটিএন ভবনে সম্মানিত বিচারক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এবছর এসজেডাব্লিউপি, বিডি এর বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দিদারুল ইসলাম এবং মোঃ শাহরিয়ার হাসান।

বিচারকদের মতে প্রত্যেকটি প্রোজেক্ট অভাবনীয় ছিল এবং তারা তরুণদের এমন ভিন্ন ভিন্ন চিন্তাধারা নিয়ে খুবই আশাবাদী।

কারণ তরুণরা তাদের অভাবনীয় উদ্ভাবনীর মাধ্যমে পৃথিবীকে বসবাস যোগ্য করে তুলতে পারবে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.